Monday, October 21, 2024

মালয়েশিয়ার পর ইতালি কেলেঙ্কারি, সর্বস্বান্ত হচ্ছেন লাখো বাংলাদেশি

মালয়েশিয়ার পর ইতালি কেলেঙ্কারি, সর্বস্বান্ত হচ্ছেন লাখো বাংলাদেশি

 
চট্টগ্রাম জেলার বাসিন্দা রিগান উদ্দীন। উন্নত জীবনের আশায় ইতালিতে ওয়ার্ক পারমিটের জন্য আবেদন করেন ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি ওয়ার্ক পারমিট পান, যা এনওসি-নুলাওস্তা নামে পরিচিত। তবে সাত মাস ঘুরেও ঢাকায় ইতালি দূতাবাসের এজেন্ট ভিএফএস গ্লোবালে অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাননি। ফলে এখনো জমা দিতে পারেননি সম্পূর্ণ ফাইল। জাগো নিউজকে রিগান উদ্দীন বলেন, ‘ওয়ার্ক পারমিট পাওয়ার পর অ্যাম্বাসিতে ফাইল জমা দিতে পারছি না। ফাইল জমা হলে এরপর যাচাই-বাছাই করে ইতালি কর্তৃপক্ষ ভিসা দেয়। অনেকে ফাইল জমা দিয়ে এখনো ভিসা পায়নি। আমি কবে ফাইল জমা দিতে পারবো সেটিই জানি না। এখন বেকার। কোনো কাজ নেই। অন্য কোনো দেশেও যেতে পারছি না।’


শুধু রিগান উদ্দীন নন, এভাবে বাংলাদেশের প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী ইতালি থেকে ওয়ার্ক পারমিট পেয়ে অপেক্ষার প্রহর গুনছেন। তাদের মধ্যে পাসপোর্টসহ ফাইল জমা দিতে পেরেছেন ৪০ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী। বাকিরা ফাইলই জমা দিতে পারেননি। ইতালি গিয়ে উন্নত জীবনের যে স্বপ্ন তারা দেখেছিলেন, তা যেন তাদের কাছে অভিশাপ হয়ে ফিরে এসেছে। বলা যায়, স্বপ্ন দেখতে গিয়ে ফেঁসে গেছেন তারা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইতালি থেকে যেসব ওয়ার্ক পারমিট এসেছে তার একটি বিশাল সংখ্যক ভুয়া। অভিবাসনপ্রত্যাশীর কাছ থেকে দালাল বা এজেন্সিগুলো বড় অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিলেও প্রকৃত কোনো ডকুমেন্ট আনতে পারেনি। প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে সেই অভিবাসনপ্রত্যাশীকে ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে জাল কাগজপত্র। দূতাবাসে জমা হওয়ার পর জাল কাগজের বিষয়টি ধরতে পেরেছে ইতালির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এ কারণেই আটকে দেওয়া হয়েছে ইতালিতে কর্মী নেওয়ার প্রক্রিয়া।

 সংশ্লিষ্টরা বলেন, ইতালি থেকে ঠিক কতজনের ওয়ার্ক পারমিট এসেছে এবং তাদের মধ্যে কতগুলো আসল বা নকল, তার সঠিক কোনো পরিসংখ্যান কারও কাছেই নেই। এখন অসাধু চক্রের কারণে বেকায়দায় পড়েছেন সবাই। গত কয়েক বছরে গণহারে মালয়েশিয়ার ভিসা ইস্যু হওয়া নিয়ে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, একই অবস্থা দাঁড়াতে যাচ্ছে এবার ইতালির ক্ষেত্রে। মালয়েশিয়ার ভিসা হাতে পাওয়ার পরও যেমন ১৭ হাজারের বেশি কর্মী যেতে পারেননি, টাকাও ফেরত পাননি; একই রকম পরিস্থিতি এবার হতে পারে ইতালির ক্ষেত্রে। দেশটি যে প্রক্রিয়া আটকে রেখেছে তা যদি গুরুত্ব দিয়ে যথাযথভাবে সমাধান না করে তাহলে কয়েক লাখ টাকা খরচ করার পরও আটকে যাবেন প্রকৃত ওয়ার্ক পারমিট পাওয়া অভিবাসনপ্রত্যাশীরা। আবার যারা কয়েক লাখ টাকা খরচ করার পর ভুয়া ওয়ার্ক পারমিট পেয়েছেন, তাদের সর্বনাশ এরই মধ্যে হয়ে গেছে। অভিবাসনপ্রত্যাশী ইয়াছিন আরাফাত জাগো নিউজকে বলেন, ‘ওয়ার্ক পারমিট পাওয়ার পর তিন মাসের চেষ্টায় ফাইল জমা দিতে পেরেছি। এখন চার মাস হয়েছে। ভিসা হবে কি না, ফলাফল কবে পাবো, জানি না। অথচ ইতালি সরকারের এসব ফাইল তিন মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করার কথা। ওয়ার্ক পারমিট আনাসহ এ পর্যন্ত সাত লাখ টাকা খরচ হয়েছে। ঢাকায় একটি দোকানে ক্যাশিয়ার হিসেবে আপাতত আছি। ভিসা না হলে সব মাটি হয়ে যাবে। এমন অবস্থায় আছি, অন্য কোনো দেশেও যেতে পারছি না। হাতে পাসপোর্ট নেই।’ হারিয়েছে দুকূল জানা গেছে, ইতালি সরকারের ঘোষিত ইমিগ্রেশন ডিক্রি ২০২৩-২০২৪-২০২৫ অনুযায়ী, নির্ধারিত বিদেশি কর্মী নেওয়ার কোটা ছিল ৪ লাখ ৫২ হাজার। এর অধীনে ওয়ার্ক পারমিট আসে। যাদের ওয়ার্ক পারমিট আসে তাদের মধ্যে প্রায় ৪০ হাজার আবেদন ইতালি দূতাবাসের ভিসা প্রসেসিং এজেন্ট ভিএফএস গ্লোবালে জমা করা হয়েছে। এই আবেদনগুলোর কোনো কোনোটি ৫-৬ মাস বা তারও বেশি সময় ধরে ফলাফলের জন্য অপেক্ষমাণ। 


 সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যাদের ফাইল জমা হয়ে আছে তারা পড়েছেন মূল সমস্যায়। একদিকে তারা ভিসার আশায় বিনিয়োগ করেছেন কয়েক লাখ টাকা। অন্যদিকে পাসপোর্ট হাতে না থাকায় অন্য কোনো দেশেও যাওয়ার সুযোগ হচ্ছে না। এদের অনেকেই আবার আগে অন্য কোনো দেশে অভিবাসী কর্মী ছিলেন। ধনী দেশে যাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে এখন তারা দুকূলই হারিয়েছেন। পারিবারিক, আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত গত ৮ সেপ্টেম্বর ইতালির অভিবাসনপ্রত্যাশীরা ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে বাংলাদেশ মাইগ্রেশন ডেভেলপমেন্ট ফোরামের ব্যানারে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ২০২৩ সালে ওয়ার্ক পারমিট পেয়েও আজ প্রায় দুই বছর হয়ে যাচ্ছে, তারা ভিসা পাননি। দূতাবাসের সব নিয়ম মেনে পাসপোর্ট ও ডকুমেন্টস জমা দিয়েছেন। এখন পাসপোর্টও ফেরত পাচ্ছেন না। আবেদন বাতিল করে অন্য কোনো দেশেও যাওয়ার সুযোগ নেই। পারিবারিক, আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তারা। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, তাদের অনেকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে দেশে এসেছেন ফাইল জমা দিতে। কিন্তু তাদের ফাইল নিষ্পত্তি না হওয়ায় পাসপোর্ট আটকে আছে। পুনরায় মধ্যপ্রাচ্যেও ফেরত যেতে পারছেন না। একেকজন অভিবাসী দেশে ফিরে ১২ থেকে ২৪ মাস পর্যন্ত অপেক্ষায় থেকে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। সংশ্লিষ্টরা আরও জানিয়েছেন, ২০১২ সালে ইতালির শ্রমবাজার বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ ৮ বছর পর ২০২০ সালে বাংলাদেশ থেকে ইতালিতে অবৈধ ইমিগ্রেশন প্রতিরোধে ইতালি ও বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা চুক্তি সই করা হয়। ফলে আবারও ইতালির স্পন্সর সিস্টেম তথা ইতালি সরকারের ঘোষিত ইমিগ্রেশন ডিক্রির আওতায় বাংলাদেশি কর্মী নেওয়া শুরু করে ইতালি।

 
এ বিষয়ে প্রবাসী উন্নয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ মোহাম্মদ তাইফুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, সরকারের নিয়ন্ত্রণ না থাকায় ব্যক্তি উদ্যোগে ২০২২ সাল থেকে এখন পর্যন্ত শুধু বাংলাদেশিদের প্রায় ৬ লাখ আবেদন রেজিস্ট্রেশন করা হয়। যার মধ্য থেকে এক লাখের বেশি আবেদন অনুমোদন হয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে। যদিও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ফেক ওয়ার্ক পারমিট আছে। এ কারণেই ভিসা প্রদানের প্রক্রিয়াটি ঢাকার ইতালি দূতাবাসের জন্য একটি কঠিন পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা চুক্তি সই হওয়ার পর এসব পরিস্থিতির দায় বাংলাদেশের সদ্য সাবেক সরকার এড়াতে পারে না। সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিলে ইতালি ও ইউরোপে প্রতি বছর এক কোটি শ্রমিক ঘাটতির বাজারে অপরিসীম সুযোগ নেওয়া সম্ভব। ইউরোপীয় অভিবাসন বিষয়ক সমন্বয়ক ও বিএমডিএফ ফোরামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন জয় বলেন, ইতালি দূতাবাসে জমা করা পাসপোর্ট ও ভিসাপ্রত্যাশীদের অধিকাংশই বিভিন্ন দেশ থেকে ফেরত আসা রেমিট্যান্সযোদ্ধা। মধ্যপ্রাচ্যে গিয়ে শরীরের ঘাম ঝরানো টাকা বিভিন্ন এজেন্টের হাতে তুলে দিয়েছেন স্বপ্ন পূরণের আশায়। তাদের সব অনিশ্চয়তা বন্ধ করতে হবে। দ্রুত সমস্যা সমাধান করতে হবে।




 
যা বলছে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার একান্ত সচিব মো. সরোয়ার আলম জাগো নিউজকে বলেন, ‘ইতালির এ সংকট অনেক দিনের। পাসপোর্ট জমা দিয়ে ভিসা নিষ্পত্তি না হওয়ায় মানুষ বেকার অবস্থায় রয়েছে। অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত তারা। আমরা এ বিষয়ে সমাধানের ব্যাপারে তাদের অ্যাম্বাসিকে জানিয়েছি। যদিও ভিসা দেওয়া না দেওয়া তাদের ব্যাপার।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অন্য এক কর্মকর্তা জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি ১ লাখ বা যত জনই ওয়ার্ক পারমিট পেয়েছে, তাদের মধ্যে কিছু ভুয়া ওয়ার্ক পারমিট রয়েছে। এখানে বাংলাদেশ ও ইতালির একটি চক্র ভুয়া ওয়ার্ক পারমিট বানিয়েছে। অ্যাম্বাসি এগুলো যাচাই-বাছাই করতে গিয়ে ধরা পড়েছে। এরপর থেকে ফাইল জমা নেওয়া বন্ধ। ফাইলসহ যেসব পাসপোর্ট জমা নেওয়া আছে সেগুলোর নিষ্পত্তি হচ্ছে না। এ কারণে যারা লিগ্যাল ডকুমেন্টস দিয়েছে তারাও এখন হয়রানির শিকার। পাসপোর্ট জমা দিয়ে তারা অন্য কোনো দেশে যেতে পারছেন না।’ যা বললো ইতালির দূতাবাস এ নিয়ে বিশেষ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে ঢাকায় ইতালির দূতাবাস। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তার মতোই দূতাবাস জানিয়েছে, ভুয়া ওয়ার্ক পারমিটের জন্যই পুরো প্রক্রিয়াটি আটকে ছিল। এখন ক্রমান্বয়ে সব পাসপোর্ট ফেরত দেওয়া হবে।
দূতাবাস বলেছে, বিপুল সংখ্যক জাল নথি বা ডকুমেন্টের কারণে ইতালি সরকার ১১ অক্টোবর ২০২৪ পর্যন্ত বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের নাগরিকদের অনুকূলে ইস্যুকৃত সব কর্ম অনুমোদনের বৈধতা স্থগিত করেছে, যা যথাযথ যাচাইকরণ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। ইতালির প্রভিনশিয়াল ইমিগ্রেশন অফিস থেকে নিশ্চিতকরণের পরে স্থগিত করা কর্ম অনুমোদনের যাচাইকরণ সম্পন্ন হওয়া সাপেক্ষে ইতালি দূতাবাস কর্ম ভিসা ইস্যু করবে। ‘উপরে উল্লেখিত যাচাইকরণ মুলতবি থাকা আবেদনকারীদের পাসপোর্ট ক্রমান্বয়ে ফেরত দেওয়া হবে। ফেরত প্রদানের কার্যক্রম ২০ অক্টোবর ২০২৪ থেকে শুরু করা হবে। এসএমএস অথবা ই-মেইলের মাধ্যমে প্রতিটি আবেদনকারীর সঙ্গে ভিএফএস গ্লোবালের মাধ্যমে পাসপোর্ট ফেরত দানের জন্য যোগাযোগ করা হবে।’ দূতাবাস আরও জানিয়েছে, আবেদনকারী, নিয়োগকর্তা এবং আইনজীবীদের তাদের কর্ম অনুমোদন যাচাইকরণের জন্য দূতাবাসে এবং ভিএফএস গ্লোবালে ইমেইল না পাঠানোর জন্য পরামর্শ দেওয়া যাচ্ছে। কারণ যাচাইকরণের সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়াটি ইতালিতে সম্পন্ন হয়। কর্ম অনুমোদনের ধারকরা প্রয়োজনে ইতালিতে সম্ভাব্য নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে তাদের কর্ম অনুমোদনের যাচাইকরণ সম্পর্কে আপডেট পেতে যোগাযোগ করতে পারেন।

Saturday, October 19, 2024

Earn Money Click

 

Earn Money Click

Friday, October 18, 2024

বেক্সিমকোর ৪ প্রতিষ্ঠান কিনতে চায় দুবাইয়ের কোম্পানি!

 

বেক্সিমকোর ৪ প্রতিষ্ঠান কিনতে চায় দুবাইয়ের কোম্পানি!


দুবাই ভিত্তিক বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাডসাম ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট এলএলসি বেক্সিমকো গ্রুপের চারটি কোম্পানি কিনতে চায়। কোম্পানি চারটি হচ্ছে- বেক্সিমকো লিমিটেড, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, তিস্তা সোলার লিমিটেড ও বেক্সিমকো  কমিউনিকেশনস লিমিটেড।

প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বাংলাদেশের অর্থ ও বাণিজ্য উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের কাছে বেক্সিমকোর প্রতিষ্ঠানগুলো কেনার আগ্রহের কথা জানিয়ে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, দুবাইভিত্তিক বিনিয়োগকারীদের একটি কনসোর্টিয়াম কোম্পানি চারটি কিনতে আগ্রহী। এ বিষয়ে সরকারের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে চিঠিতে। তবে অ্যাডসাম বিনিয়োগকারীদের সম্পর্কে কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রদান করেনি।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, অর্থ ও বাণিজ্য উপদেষ্টা চিঠিটি “পর্যালোচনা ও পরীক্ষা করার” জন্য বাণিজ্য সচিবের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছেন।

অর্থমন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে ইংরেজী দৈনিক টিবিএস এ বিষয়ে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে।

 বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন-

খবর অর্থনীতি-

Wednesday, October 16, 2024

২০২৫ সালের সরকারি ছুটির তালিকা প্রকাশ


২০২৫ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুমোদন করেছে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ। আগামী বছর সাধারণ ও নির্বাহী আদেশ মিলিয়ে ২৬ দিন ছুটি থাকবে। এর মধ্যে ৯ দিন পড়েছে সাপ্তাহিক ছুটির দিন (শুক্রবার ৫টি ও শনিবার ৪টি)। 

বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক। এ বৈঠকে ছুটির তালিকা অনুমোদন করা হয়। পরে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

অনুমোদিত ছুটির তালিকায় আগামী বছর সাধারণ ছুটি ১২ দিন এবং নির্বাহী আদেশে ছুটি থাকবে ১৪ দিন। গত বছর থেকে মোট ৪ দিন ছুটি বেড়েছে। আগামী বছরের পবিত্র ঈদুল আজহায় ৬ দিন এবং ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে সরকারি ছুটি ৫ দিন করা হয়েছে। এর মধ্যে দুই ঈদে সাধারণ ছুটি একদিন করে। আর বাকি দিনগুলো নির্বাহী আদেশে ছুটি থাকবে। শারদীয় দুর্গাপূজার ছুটি ২ দিন করা হয়েছে। সাধারণ ছুটি বিজয় দশমীর দিন, তার আগে নবমীর দিন নির্বাহী আদেশে ছুটি থাকবে।

অনুমোদিত ছুটির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত বিষয়সমূহ হলো

(ক) জাতীয় দিবস ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে ১২ (বার) দিন সাধারণ ছুটি। এর মধ্যে ৫টি ছুটি সাপ্তাহিক ছুটির দিন পড়েছে (৩টি শুক্রবার ও ২টি শনিবার)।

(খ) বাংলা নববর্ষ ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় পর্ব উপলক্ষ্যে ১৪ দিন নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি; এর মধ্যে ৪টি ছুটি সাপ্তাহিক ছুটির দিন পড়েছে (২টি শুক্রবার ও ২টি শনিবার)।

(গ) ধর্মীয় পর্ব উপলক্ষ্যে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের বছরে অনধিক ০৩ দিনের এচ্ছিক ছুটি।

(ঘ) পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকা ও এর বাইরে কর্মরত বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত কর্মচারীদের প্রধান সামাজিক উৎসব বৈসাবি বা অনুরূপ সামাজিক উৎসব উদযাপন উপলক্ষ্যে ২ দিন ঐচ্ছিক ছুটি। এ ছুটির মধ্যে একটি সাপ্তাহিক ছুটির দিন পড়েছে (১টি শনিবার)।

(ঙ) ১২ দিন সাধারণ ছুটি ও ১৪ দিন নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণার প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রস্তাবিত মোট ছুটি ২৬ দিন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের অনুমোদিত মোট ছুটি (০২ দিনের সাপ্তাহিক ছুটি শুক্রবার ব্যতীত) ছিল ২২ দিন।  আরও জানতে ক্লিক করুন-

Tuesday, October 15, 2024

জাহাজে হজযাত্রা খরচ কমলেও আছে চ্যালেঞ্জ, আগামী হজে বাস্তবায়নের সম্ভাবনা কম

 

জাহাজে হজযাত্রা

খরচ কমলেও আছে চ্যালেঞ্জ, আগামী হজে বাস্তবায়নের সম্ভাবনা কম


• আগামী বছরের জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে
• এবার বাংলাদেশ থেকে ১,২৭,১৯৮ জন হজ পালন করতে পারবেন
  • হজের জন্য ৩০ নভেম্বর শেষ হবে নিবন্ধন, জানুয়ারিতে হবে হজ চুক্তি।
• জাহাজে হজযাত্রী পাঠাতে ডিসেম্বরের মধ্যেই সম্পন্ন করতে হবে সব প্রস্তুতি।
বাংলাদেশ থেকে সমুদ্রপথে জাহাজে করে হজযাত্রী পরিবহনের বিষয়টি কয়েক বছর ধরে আলোচিত হচ্ছে। দীর্ঘসময় এবং নানা চ্যালেঞ্জের কারণে আগের সরকার এতে খুব একটা আগ্রহী হয়নি। এছাড়া সৌদি সরকারেরও অনুমতি মেলেনি।
তবে খরচ কম হওয়ায় অন্তর্বর্তী সরকার জাহাজে হজযাত্রী পরিবহনে বেশ আগ্রহী। সম্প্রতি সৌদি আরব সফরের সময় ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এ 
বিষয়ে প্রস্তাব দিলে প্রাথমিক অনুমতি মেলে দেশটির।
সমুদ্রপথে জাহাজে হজযাত্রী পরিবহন করা গেলে বিমান ভাড়া থেকে খরচ ৪০ শতাংশ অর্থাৎ এক থেকে দেড় লাখ টাকা কমবে। যেতে-আসতে আট দিন করে ১৬ দিন এবং হজ পালনসহ মোট এক মাসের মতো সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে মধ্যবিত্তরা হজ পালনে আগ্রহী হবেন বলে মনে করছেন তারা।
জাহাজে করে হজযাত্রী পরিবহনে সৌদি আরব সরকারের চূড়ান্ত অনুমতির অপেক্ষায় ধর্ম মন্ত্রণালয়। হজযাত্রী পাঠাতে জাহাজ কিনতে ঋণসহায়তা চেয়েছে জাহাজ কোম্পানি। এছাড়া বাংলাদেশ থেকে সমুদ্রপথে সৌদি আরব যাত্রায় নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তাই এ স্বল্প সময়ের মধ্যে জাহাজ কিনে আগামী বছরের হজে হজযাত্রী পাঠানো সম্ভব নয় বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টদের অনেকে।




আগামী বছরের জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। এবার বাংলাদেশ থেকে এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজ পালন করতে পারবেন। আগামী জানুয়ারিতে হবে হজ চুক্তি। এর আগে আগামী ৩০ নভেম্বর শেষ হবে নিবন্ধন। তাই খুব বেশি সময় হাতে নেই। জাহাজে হজযাত্রী পাঠাতে ডিসেম্বরের মধ্যেই সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হবে।

সৌদি আরব সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পর বাংলাদেশ যদি জাহাজে হজযাত্রী পাঠানোর জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকে, তখন আগামী জানুয়ারিতে হজ চুক্তিতে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হবে। কারণ বিগত বছরগুলোতে সৌদি সরকারের সঙ্গে হজচুক্তি অনুযায়ী অর্ধেক হজযাত্রী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এবং বাকি অর্ধেক সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্স পরিবহন করেছিল।
স্বাধীনতার আগে ও পরে বাংলাদেশ থেকে জাহাজে হজ করতে যেতেন হজযাত্রীরা। পাকিস্তান আমলে হজযাত্রীরা চট্টগ্রাম বন্দর থেকে জাহাজে উঠতেন। এরও আগে হজযাত্রীরা জাহাজে উঠতেন মুম্বাই থেকে। সময় লাগতো কয়েক মাস। ১৯৮৪ সালে জাহাজে হজযাত্রী পরিবহন বন্ধ হয়ে যায়।

গত কয়েক বছরে হজের খরচ অনেক বেড়েছে। চলতি বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যেতে সাধারণ প্যাকেজে ৫ লাখ ৭৮ হাজার ৮৪০ টাকা খরচ ধরা হয়েছিল। বিশেষ হজ প্যাকেজের মাধ্যমে হজ পালনে খরচ হয় ৯ লাখ ৩৬ হাজার ৩২০ টাকা।

অন্যদিকে বেসরকারিভাবে এজেন্সিগুলোর মাধ্যমে সাধারণ প্যাকেজে হজ পালনে সর্বনিম্ন খরচ হয় ৫ লাখ ৮৯ হাজার ৮০০ টাকা। বিশেষ প্যাকেজের মাধ্যমে হজ
পালনে খরচ হয়েছিল ৬ লাখ ৯৯ হাজার ৩০০ টাকা।খরচ অত্যধিক বেড়ে যাওয়ায় চলতি বছর কোটার চেয়ে ৪১ হাজার ৯৪১ জন কম হজ পালন করেছেন। তবে এবার হজের খরচ কমানোর ঘোষণা দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, জাহাজে হজযাত্রী পাঠানোর ক্ষেত্রে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। জাহাজের হজযাত্রীদের সেবায় স্থাপনাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা গড়ে তুলতে হবে। এছাড়া বাংলাদেশের বেশিরভাগ হজযাত্রী বৃদ্ধ। তারা এই দীর্ঘ ভ্রমণের ধকল নিতে পারবেন কি না, সেটি একটি বড় প্রশ্ন। জাহাজে থাকার সময় হজযাত্রীরা অসুস্থ হলে কীভাবে তাদের চিকিৎসা হবে, তারা কীভাবে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন-এ বিষয়গুলো বিবেচনায় নিতে হবে।

‘জাহাজ কোম্পানি এবার জাহাজ দিতে পারলে আমরা হজযাত্রী পাঠানোর চেষ্টা করবো। তারা প্রস্তুত থাকলে জাহাজে হজযাত্রী পাঠানোর বিষয়ে সৌদির সঙ্গে চুক্তিও করবো।’- ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. মতিউল ইসলাম

আগামী বছর হজের প্রস্তুতিমূলক কাজের জন্য ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সৌদি আরব সফর করে। গত ৬ অক্টোবর সৌদির হজ ও ওমরাহ বিষয়ক মন্ত্রী তাওফিক ফাউযান আল রাবিয়ার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন ধর্ম উপদেষ্টা। সেখানে সমুদ্রপথে হজযাত্রী পাঠানোর বিষয়ে প্রস্তাব দেন তিনি।

সৌদির হজ ও ওমরাহ বিষয়ক মন্ত্রী জানান, সমুদ্রপথে বাংলাদেশ থেকে হজযাত্রী পাঠানোর ক্ষেত্রে সৌদি সরকারের কোনো আপত্তি নেই। তবে বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার প্রয়োজন আছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারকেও জাহাজ কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এ বছর পরীক্ষামূলকভাবে জাহাজে দু-তিন হাজার হজযাত্রী পাঠানোর ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকার চিন্তাভাবনা করছে বলে ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে।



এরপর গত ৯ অক্টোবর জাহাজে হজযাত্রী পরিবহনে জাহাজ কোম্পানির সঙ্গে বৈঠক করে ধর্ম মন্ত্রণালয়। সেই বৈঠকে হজযাত্রী পরিবহনে জাহাজ কেনার জন্য সরকারের কাছে ঋণসহায়তা চায় জাহাজ কোম্পানি। এ বিষয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয় তাদের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মু. আ. হামিদ জমাদ্দার জাগো নিউজকে বলেন, ‘জলপথে জাহাজে হজযাত্রী পাঠানোর চেষ্টা আমরা করছি। সৌদি আরবের বন্দরের অনুমতি লাগবে। জাহাজে হজযাত্রী পাঠানোর জন্য সৌদি আরব মুখে বলেছে, এখন তাদের চূড়ান্ত অনুমতিটা আমরা নেবো। চূড়ান্ত অনুমতি পাওয়ার পর হয়তো জাহাজ মালিকদের নিয়ে বসে সিদ্ধান্ত নেবো জাহাজে হজযাত্রী পাঠাতে পারবো কি পারবো না।’
জাহাজ মালিকদের সঙ্গে প্রাথমিক কথাবার্তা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. মতিউল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘জাহাজ কোম্পানি এবার জাহাজ দিতে পারলে আমরা হজযাত্রী পাঠানোর চেষ্টা করবো। তারা প্রস্তুত থাকলে জাহাজে হজযাত্রী পাঠানোর বিষয়ে সৌদির সঙ্গে চুক্তিও করবো।’

জাহাজে গেলে খরচ কিছুটা কমবে জানিয়ে অতিরিক্ত সচিব বলেন, ‘জাহাজে হজযাত্রী পাঠানোর বিষয়ে চূড়ান্ত অনুমতির জন্য আমরা সৌদি আরবকে লিখেছি। জাহাজ কোম্পানির সঙ্গে প্রাথমিকভাবে যে আলাপ হয়েছে সে অনুযায়ী জাহাজ কিনে তারপর হজযাত্রী পাঠাতে হবে। এজন্য তারা সরকারের কাছে ঋণ চেয়েছেন।’

‘জাহাজে হজযাত্রী পাঠালে খরচ ৪০ শতাংশ কমে যাবে। এখন যেখানে প্রায় ৬ লাখ টাকা খরচ হয়, সেখানে আমরা ৪ লাখ ৬৫ হাজার টাকার একটা প্যাকেজের হিসাব দিয়েছি।’- কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্সের এমডি এম এ রশিদ


কয়েক বছর ধরেই জাহাজে হজযাত্রী পাঠানোর বিষয়ে আগ্রহের কথা জানিয়ে আসছে কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স। এজন্য তারা সরকারের কাছে বিভিন্ন সময় প্রস্তাবও দিয়ে রেখেছিল। এ বিষয়ে তাদের একটি জরিপ রয়েছে বলেও জানা গেছে।কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এম এ রশিদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘জাহাজে হজযাত্রী পাঠানোর বিষয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা হয়েছে। আমরা এবার হজযাত্রী পাঠানোর চেষ্টা করছি। সৌদি আরব মুখে অনুমতি দিয়েছে, এখন চূড়ান্ত অনুমোদের জন্য তাদের কাছে চিঠি লেখা হচ্ছে। সেখান থেকে আনুষ্ঠানিক অনুমতি আসার পর আমরা এ বছর হজযাত্রী পাঠানোর চেষ্টা করবো।’এ বছর জাহাজে হজযাত্রী পাঠাতে পারবেন কি না- জানতে চাইলে এম এ রশিদ বলেন, ‘সরকার যদি সিরিয়াস হয়, আমাদের যদি সহযোগিতা করে, তবে সম্ভব। এটার সঙ্গে অনেক কিছু জড়িত। ইমিগ্রেশন, কাস্টমস, অমুক-সমুক কত কিছু জড়িত। এটা সরকারের ওপর নির্ভর করে যে তারা কত তাড়াতাড়ি চূড়ান্ত করতে পারে, সেটা দেখার বিষয়।’

যাত্রী হবে কি না এ বিষয়ে কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্সের এমডি বলেন, ‘যাত্রীরা তো জাহাজে চড়ে হজে যাওয়ার জন্য পাগল বানিয়ে দিচ্ছে। যাত্রীর কোনো অভাব নেই।’
জাহাজে হজে গেলে খরচ অনেকটাই কমে আসবে জানিয়ে এম এ রশিদ বলেন, ‘জাহাজে হজযাত্রী পাঠালে (বিমান থেকে ভাড়া) খরচ ৪০ শতাংশ কমে যাবে। এখন যেখানে প্রায় ৬ লাখ টাকা খরচ হয়, সেখানে আমরা ৪ লাখ ৬৫ হাজার টাকার একটা প্যাকেজের হিসাব দিয়েছি। জাহাজে হজযাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রে প্যাকেজের টাকা এক থেকে দেড় লাখের মতো কমবে। তবে প্যাকেজ সরকার বা এজেন্সি করবে। আমরা শুধু ক্যারিয়ার হবো বিমানের মতো।’যেতে ও আসতে আট দিন করে সময় লাগবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। সমুদ্রপথে হজযাত্রী পাঠাতে হলে জাহাজ কিনতে হবে জানিয়ে এম এ রশিদ বলেন, ‘সৌদি আরবের চূড়ান্ত অনুমতির পর আমরা জাহাজ সংগ্রহ করার চেষ্টা করবো। জাহাজ আনা তো সময়সাপেক্ষ ব্যাপার।’ ‘জাহাজ ভাড়া আনলে প্রতিদিনের ভাড়া ৫০ হাজার ডলার। ভাড়া এনে হজযাত্রী পরিবহন করলে পোষাবে না। ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।’ যোগ করেন তিনি।
জাহাজ কিনতে অনেক টাকা লাগবে জানিয়ে এ জাহাজ মালিক বলেন, ‘জাহাজ নির্মাণকারীদের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে একটি ফান্ড আছে। গত চার বছর তো সেখান থেকে কোনো টাকা ছাড় হচ্ছে না। সেখান থেকে জাহাজ কেনার জন্য আমরা এক হাজার কোটি টাকা ঋণ চেয়েছি।’
প্রস্তুতির বিষয়ে এম এ রশিদ বলেন, ‘চট্টগ্রামে আমাদের জেটি রয়েছে। ইমিগ্রেশনটা সৌদি আরবে হলে এক রকম, আর আমাদের এখানে হলে আমরা চেষ্টা করবো চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে করার জন্য। চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে আমাদের জেটির দূরত্ব পাঁচ মিনিট। বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন হওয়ার পর এসে জাহাজে উঠে পড়বে। সরকার চাইলে সবই সম্ভব। প্রাথমিকভাবে আমরা তিন-চার হাজার হজযাত্রী পাঠানোর চিন্তা করছি।’
‘হজযাত্রীরা আরও অনেক কম খরচে হজে যেতে পারবেন। এতে অনেকেই হজ পালনে আগ্রহী হবেন। জাহাজে যেতে যে আট দিন লাগবে, এই সময়ের মধ্যে হজযাত্রীদের খুব ভালোভাবে ট্রেনিংয়ের কাজটি করা যাবে।’-হাব সভাপতি ফারুক আহমদ সরদার




জাহাজে হজযাত্রী পাঠানোর বিষয়ে হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) সভাপতি ফারুক আহমদ সরদার জাগো নিউজকে বলেন, ‘এবার হজের আগে এ সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে জাহাজে হজযাত্রী পাঠানোর সুযোগ নেই। ভবিষ্যতের জন্য এটা খুবই ভালো হবে বলে আমরা মনে করি। এটি হলে হজযাত্রীরা আরও অনেক কম খরচে হজে যেতে পারবেন। এতে অনেকেই হজ পালনে আগ্রহী হবেন। জাহাজে যেতে যে আট দিন লাগবে, এই সময়ের মধ্যে হজযাত্রীদের খুব ভালোভাবে ট্রেনিংয়ের কাজটি করা যাবে।’জাহাজে হজযাত্রী পরিবহনে নানা ধরনের প্রস্তুতির প্রয়োজন রয়েছে জানিয়ে হাব সভাপতি বলেন, ‘চট্টগ্রাম গিয়ে এই হজযাত্রীরা কোথায় থাকবেন? একটা কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। আমাদের প্রস্তুতি নিয়ে পাঠাতে কিছুটা সময় তো লাগবেই।’‘সৌদি সরকার চূড়ান্ত অনুমোদন দিলেও আগামী বছরের হজে জাহাজে হজযাত্রী পাঠানো সম্ভব হবে বলে আমরা মনে করি না।’ বলেন ফারুক আহমদ সরদার।

বিমানবাহিনী নিয়োগ ২০২৫ সার্কুলার, আবেদন শুরু ১ নভেম্বর

 

বিমানবাহিনী নিয়োগ ২০২৫ সার্কুলার, আবেদন শুরু ১ নভেম্বর



বাংলাদেশ বিমানবাহিনী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। বাহিনীটিতে ৯২ বিএএফএ কোর্সে অফিসার ক্যাডেট পদে জনবল নিয়োগের জন্য এ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। আগামী ১ নভেম্বর থেকে আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। আবেদনের শেষ সময় আগামী ৫ এপ্রিল ২০২৫ পর্যন্ত। অফিসার ক্যাডেট পদে নারী ও পুরুষ উভয় প্রার্থীই আবেদনের সুযোগ পাবেন।